মেয়েটির নামেই কেমন ফুল ফুল গন্ধ। ভোরের স্নিগ্ধতা…সদ্য ফোটা কৈশোরে।ফুল ফুটেছিল ১২ জুলাই, ১৯৯৭ সালে, পাকিস্তানের সোয়াটে।দুই ছোট ভাই, বাবা-মা আর কয়েকটা ছোট ছোট মুরগির ছানা নিয়ে সংসার।

তবে নামে যার সংগ্রামের সঙ্কেত, সে কতদিন আর নিস্তরঙ্গ থাকবে! মালালা ইউসুফজাইয়ের-ও তাই আর পাঁচজন হয়ে থাকা হল না। কৈশোর উঁকি দেওয়ার আগেই বিবিসি-র স্থানীয় প্রতিনিধি হয়ে যার গণ্ডিভাঙা শুরু, তাকে কিনা আটকাবে তালিবানি গুলি!

শিক্ষার অপরাধে তাই তার গতি-রোধকারী মারণ-বাণ ধেয়ে আসার অনেকটা আগে থেকেই মালালা আসলে কিন্তু চৌকাঠ পেরনো, আন্তর্জাতিক। শিক্ষার দাবি নিয়ে ধূমকেতুর মতো ধাবমান স্বপ্ন তার।

পরের বাস্তবটা আজকের এবং অনাগত সুদূর ভবিষ্যতের সবচেয়ে বড় প্রেরণা হিসেবে উজ্জ্বল থাকবে, নিঃসন্দেহে।

আর থাকবে সেই বইটা। আই অ্যাম মালালা। ব্রিটেনের নিয়েলসন বুক রিসার্চ থেকে প্রকাশিত এই বইটি বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজেতার আত্মজীবনী। পৃথিবীর মুখ দেখে ২০১৩ সালে। এখনও অবধি শুধু ব্রিটেনেই এর বিক্রি ২৮৭,১৭০ কপি। তার মোট মূল্য ৩ মিলিয়ন ডলার। আর সারা বিশ্বে নিঃশেষিত প্রায় আরও ১.৮ মিলিয়ন কপি। বলা বাহুল্য, এর পুরো স্বত্বাধিকারী অধুনা ব্রিটেন প্রবাসী এই মেয়েটিই।

 বক্তৃতা দেওয়া, বিভিন্ন পুরস্কারমূল্য ইত্যাদি সুবাদে আয় তো আছেই, শুধু বই থেকেই মালালার আয় ভারতীয় মুদ্রায় কয়েক কোটি টাকারও বেশি। শুধু বই বেচা নয়, মালালার জীবনকাহিনির সমস্ত স্বত্ব নিজেদের কাছে রাখতে ইউসুফজাই পরিবার খোদ লন্ডনেই এক কোম্পানি খুলেছে। নাম তার সালারজি লিমিটেড। সেই কোম্পানিরও বার্ষিক আয় ২০১৪-র তুলনায় ২০১৫ সালে বৃদ্ধি পেয়েছে ৬৫ শতাংশ।

এই সম্মিলিত আয়েরই এক বড়সড় অংশ দিয়ে তৈরি হয়েছে মালালা ফান্ড। সারা বিশ্বে শিক্ষা, বিশেষ করে নারী-শিক্ষা প্রসারে কাজ করছে এই ফান্ড। ইতিমধ্যে দশ লক্ষেরও বেশি টাকা মালালার তরফ থেকে দেওয়া হয়েছে এই ফান্ডে। সারা বিশ্ব হাত বাড়িয়েছে এই উদ্যোগের দিকে।

আর হাত বাড়িয়েছে ইউনাইটেড নেশনস। মালালার সংগ্রাম এবং নারীশিক্ষা বিস্তারের প্রতি সম্মানে ১২ জুলাই, মালালার জন্মদিনকেই ঘোষণা করা হয়েছে মালালা দিবস হিসেবে।

মালালার বক্তৃতা থেকে গোটা পৃথিবীতে যত অনুপ্রেরণা, তার চেয়ে অনেক বেশি সঙ্গত জুগিয়ে চলেছে তার মুদ্রিত জীবনকাহিনি…অর্থে এবং সামর্থ্যে!