হ্যাঁ ঠিকই পড়েছেন হায়দ্রাবাদে শুরু হল মানব-গ্রন্থাগার।

বয়স এখনও মাস দুই পেরোয় নি; কিন্তু, পাঠকদের মধ্যে ইতিমধ্যে বেশ সাড়া ফেলেছে হর্ষদ ফাদের এই অভিনব প্রচেষ্টা।

এই ধরুন আপনার কোনো বিষয়ে কিছু জানার আছে তার জন্য আপনি কী করেন? এক মগ জলের চাহিদা নিয়ে নেমে পড়েন গুগুল সমুদ্রে অথবা রওনা দেন লাইব্রেরিতে, ঘেঁটে ফেলেন থরে থরে সাজানো বই; তাতেও কি সবসময় যেমনটা জানতে চাইছেন জানতে পারেন? অনেক সময়ই উত্তরটা হলো না– আর তখন যদি কেউ আপনাকে সেই বিষয়টা বসে বুঝিয়ে দেয়! তাতে সময়ের সাশ্রয় আর জিজ্ঞাসার উত্তর সবটাই নিখুঁত হয়। আদিকাল থেকে চলে আসা এই অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ওপর এক নতুন অভিনব প্রচেষ্টা হল, একদল গ্রন্থমানবকে নিয়ে গড়া মানব-গ্রন্থাগার, যেখানে বইয়ের বদলে বেছে নেওয়া যায় মানুষ; অর্থাৎ কোনো বিষয় নিয়ে আপনি উৎসাহিত হলে সেই বিষয় নিয়ে গভীরে পড়াশুনা করা অভিজ্ঞ একজন মানুষের সঙ্গে আপনি সরাসরি কথা বলতে পাবেন।জীবনের অজস্র চড়াই উতরাই হেঁটে ফেলা মানুষগুলো প্রত্যেকেই যেন এক একটি বই।আপাতত দশজন গ্রন্থমানব নিয়ে পথ চলা শুরু করেছে হায়দ্রাবাদের অন্নপূর্ণা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশনের ছাত্র হর্ষদ এবং তার বন্ধুরা। প্রতিটি মানব-বইয়ের সঙ্গে সাক্ষা‍ৎ-সময়ের ঊর্ধ্বসীমা আপাতত আধঘন্টা। এই গ্রন্থাগারে বই হতে পারেন আপনিও, যদি আপনার কাছে থাকে দৈনন্দিনের থেকে স্বতন্ত্র অভিজ্ঞতার ভান্ডার।

হর্ষদ জানিয়েছেন ২০১৬ সালে আই আই এম ইন্দোরে প্রথম এই ধরনের অভিনব প্রচেষ্টা করা হয়। এরপর হায়দ্রাবাদে তাঁদের এই প্রচেষ্টা। ভারতে এই চেষ্টা প্রথম হলেও অস্ট্রেলিয়ায় কিন্তু এ হেন একটি গ্রন্থাগার স্থায়ীভাবে আছে।

২০০০ সালে ডেনমার্কে যুব আন্দোলোনের অংশ হিংসা প্রতিরোধের উপায় হিসেবে প্রথমবার মানব-গ্রন্থাগারের ব্যবহারিক প্রয়োগ করেন রনি অ্যাবার্গেল। এই অভিনব কর্মকান্ডের মূল ভাবনা ছিল মানুষের পারস্পরিকতা বাড়ানো। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ক্যাটালগে বাস্তব অভিজ্ঞতা ভিত্তিক সেই বিষয়গুলিই পাওয়া যাবে যা দৈনন্দিনে আমাদের অনেকের জীবনেই এক নিয়মিত সমস্যা, কিন্তু সমাধান পাঠ্যপুস্তক বহির্ভূত। যেহেতু গ্রন্থমানব যে মানুষটি তিনি নিজের জীবনের ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলি নিয়ে কথা বলেন পাঠক এবং ‘পুস্তক’ দু’জনেই অনেক আবেগঘন মূহুর্তের মধ্য দিয়ে কাটে আধঘন্টার প্রতিটি সেসন। এতে একদিকে দু’জন মানুষের মধ্যে যেমন একটা বন্ধন তৈরি হয় তেমনই পাঠকদের কেউ হয়ত সমাধানের কোন বাস্তব উপায় খুঁজে পেতে পারেন। আবার যারা সরাসরি সে সমস্যার মধ্যে নেই কিন্তু, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে তার কারণের সঙ্গে যুক্ত, তাদেরও ভাবনা চিন্তা পাল্টাতে পারে অনেক ক্ষেত্রে।

আজকের ডিজিটাল যুগে মানুষের যখন একে অপরের সাথে কথা বলা কমে চলেছে সেখানে এই অভিনব প্রচেষ্টা হয়ত এক নতুন দিশার সন্ধান দেবে।