এই লেখাটি তাদের জন্য যাদের বই পড়ার কোন অভ্যাস নেই. যদিও বা ইচ্ছা আছে, কিন্তু বড় লেখা পড়তেই পারেনা। মাথা ব্যাথা করে। যেহেতু এই লেখাটিও বড় আপনি এই লেখা ৪ বসায় পড়ে নিবেন। লেখাটিকে সেভাবে ৪ ভাগে ভাগ করা হয়েছে
.
✍️✍️ #প্রথম ভাগঃ------- কেন বই পড়ব ????? 

 বই হচ্ছে এমন বন্ধু যে অবসরে আপনাকে সময় দেয় কোন বিনিময় ছাড়াই। বই হচ্ছে এমন শিক্ষক যে বিনীতভাবে আগ্রহী ছাত্রদের জ্ঞান শিক্ষা দেয়। বই হচ্ছে এমন বৃক্ষ যা সব ঋতুতেই ফল দান করে। বই পাঠককে কাঁদাতে পারে আবার হাসাতেও পারে, উপকারী জ্ঞান যেমন দান করতে পারে, তেমনি নিয়ে যেতে পারে বাস্তবতা বিবর্জিত অপার্থিব কোন কাল্পনিক জগতে। উপকারী বই পড়ে আপনি আপনার জগতটাকে আরও ভালোভাবে জানতে পারেন। আগের জমানার লোকদের কাহিনী থেকে নিজের জীবনের পথচলায় শিক্ষা লাভ করতে পারেন। বই পড়া আপনার চিন্তা ও বুদ্ধিকে শাণিত করতে পারে, আপনার চরিত্র গঠনে সহায়তা করতে পারে এবং আপনার জবানকে করতে পারে আরও যুক্তিশীল, আরও শাণিত।
বারট্রান্ড রাসেল বলেছেন,'সংসারে জ্বালা-যন্ত্রণা এড়াবার প্রধান উপায় হচ্ছে, মনের ভেতর আপন ভুবন সৃষ্টি করে নেয়া এবং বিপদকালে তার ভেতর ডুব দেয়া। যে যতো বেশি ভুবন সৃষ্টি করতে পারে, ভবযন্ত্রণা এড়াবার ক্ষমতা তার ততোই বেশি হয়।’

আমি কখনো আমেরিকাতে যাইনি। তবে কল্পনায় রকি বীচের সেই পাশা স্যালভ্যাজ ইয়ার্ডে লোহালক্করের জঞ্জালে বসে রহস্য নিয়ে ভাবনায় হারিয়েছি প্রায়ই।আমি কখনো গ্রেট ব্রিটেনেও যাইনি। তবে কল্পনার পাখায় চেপে রহস্যময় ডায়াগন এলির দোকানগুলোতে ঢু মেরেছি হরেকবার। যাওয়া হয়নি আমাজন কিংবা আটলান্টিকেও; মুক্তো আনতে ডুব দেয়া হয়নি বিপদজনক সাগরের তলে, জীবনের ঝুকি নিয়ে পাড়ি দেয়া হয়নি আফ্রিকার ভীষণ অরণ্য। কিন্তু কল্পনাকে কে আটকায়? কল্পনায় তো বাধা নেই।
যারা বই পড়ে না, তারা ভাবে বই পড়ুয়ারা কী মজা পায় কিছু কাগজে মুখ গুজে পড়ে থাকতে? তারা তো জানেনা কল্পনার কত অদম্য শক্তি!
যে লোকটি বই-কে নিত্যদিনের সঙ্গী বানিয়েছেন, সেই লোকটি সমাজের অন্য ১০ জন মানুষের চেয়ে ভিন্ন। তার মন-মনন আলাদা। চিন্তা-চেতনা ভিন্ন। সহিষ্ণুতা আর বিশ্বাসের ধরনটাও আলাদা। তার worldview হয় আলাদা।
.
✍️✍️ #দ্বিতীয় ভাগঃ-- বই না পড়তে পারার কারণঃ-

কিছু মানুষ শত চেস্টার পরেও বই পড়তে পারেনা। এই না পারার পেছনে বেশ কিছু কারণকে দায়ী করাহয় সেগুলো হলঃ

 ১। মনোযোগের অভাব, তাড়াতাড়ি বিরক্ত হয়ে যাওয়া, অস্থিরতা। ধৈর্য ও সহনশীলতার অভাব। এধরনের লোক খুব বেশী নড়াচাড়া করে। এক জায়গায় স্থির হয়ে বসতে পারেনা।

 ২। এমন সঙ্গীদের অভাব যারা বই পড়ে ও পড়তে উৎসাহ দেয়। এমন বন্ধু থাকা যারা জ্ঞানার্জনে অনুৎসাহী। মানুষ তার কাছের বন্ধুদের অনেক জিনিস রপ্ত করে।

 ৩। উপকারী কাজের বদলে বেকার কাজ করা। ফালতু জিনিস পড়ে বই পড়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলা। যেমন; ফালতু ম্যাগাজিন, খেলার পাতা, নিম্নমানের সাহিত্য বা লেখা পড়া।

৪। ইউনিভার্সিটির কোর্স ওয়ার্কের বাইরের কোন বই না পড়া এবং এভাবে মন-মগজকে আবদ্ধ করে ফেলা।

 ৫। বই পড়ার ব্যাপারে কারও পরামর্শ না নেয়া। ইচ্ছামত বই পড়া শুরু করা আর মাঝপথে খেই হারিয়ে ফেলা।

 ৬। আলসেমি, হেলামি ও আরামপ্রিয় আচরণ। খাওয়া, পানাহার আর ঘুমানোই যেন তাদের জীবনের উদ্দেশ্য। একটু বই পড়েই তারা ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। ইমাম ইয়াহিয়া ইবনে আবু কাসির (রহঃ) বলেন, ‘শরীরকে আরাম দিয়ে জ্ঞান অর্জন করা যায়না।”

 ৭। ঘন্টার পর ঘন্টা মুভি বা টিভি সিরিয়াল বা খেলা দেখে কাটিয়ে দেয়া। অথবা কার্ড বা অন্য কোন গেম খেলে সময় নস্ট করা। কিন্তু বই পড়ার প্রশ্ন আসলে বলবে, “আমার তো সময় নাই!”

 ৮। মাঝে মাঝে অনেকে খুবই উচ্চমানের সাহিত্যের বই কিনে পড়া শুরু করে। ফলে লেখা বোধগম্য হয়না। শব্দ অপরিচিত মনে হয়।
.
#তৃতীয় ভাগঃ --কীভাবে বই পড়ার অভ্যাস রপ্ত করব??????

এটিই লেখার মূল পয়েন্ট। কথা না বাড়িয়ে সাজেশনে যাওয়া যাক---

 ১। প্রতিদিন বই পড়ার জন্য অল্প কিছু সময় নির্ধারিত রাখুন। হতে পারে তা মাত্র ১৫ মিনিটই। কিন্তু এ সময়টাতে আপনি বই পড়বেন। অন্য কিছুতে মনোযোগ সরাবেন না।

 ২। IELTS এ Scanning আর Skimming নামে দুইটি টেকনিক শেখায়। সহজ ভাষায়, চেস্টা করবেন, বড় কোন অনুচ্ছেদের লেখা ভাসা ভাসা পড়ে মূল ভাব বুঝে ফেলা যায় কিনা। প্রয়োজনে প্রতি লাইনের শুরু আর শেষ পড়বেন ভালোভাবে। মাঝখান স্কিম করবেন। তাছাড়া নির্দিষ্ট কিছু শব্দ বড় লেখায় স্ক্যান করে আন্ডারলাইন করে পড়ূন। আবার পড়ুন। ধীরে ধীরে উন্নতি আসবে।

 ৪। কী বই পড়বেন তার ছোট্র একটি তালিকা করে ফেলুন।

 ৫। যখন কোন বই একেবারেই ভাল লাগছেনা, একটু বিরতি দিয়ে আরও কিছু পাতা পড়ার চেস্টা করেন। অবস্থার পরিবর্তন না হলে বই পড়া বাদ দিন। ইন্টারেস্টিং কোন বই পড়ূন।

 ৬। বই পড়ার ব্যাপারে এক্সাইটমেন্ট আনার চেস্টা করুন। বইটির রিভিউ দেখুন অনলাইনে অন্য পাঠকেরা কী মন্তব্য করছে জানুন। সম্ভব না হলে, বইটির প্রথম কয়েক পাতা, সূচিপত্র আর পিছনের ফ্ল্যাপে লেখা সারাংশটি পড়ুন, বই নাড়াচাড়া করুন যাতে তাগিদ তৈরি হয়।

 ৭। মজা নিয়ে পড়ার চেস্টা করুন। শেষ করতেই হবে এমন কোন কথা নেই। সময়টাকে উপভোগ করুন। ডুবে যান বইয়ের পাতায়।

 ৮। মোবাইল এবং কম্পিঊটারকে দূরে সরিয়ে নিন। ফেসবুকে বিরতি নিন। ঘরে একাকী কোন স্থানে বই নিয়ে চলে যান। আরাম কেদারায় বসে বইয়ে হারিয়ে যান। তবে যদি খুব বেশি ঘুমকাতুরে হন,বেশি আরাম করতে যাইয়েন না। চা বা কফি সাথে রাখা যায়।

 ৯। মাঝে মাঝে বইয়ের দোকানে ঢু মারুন। বইয়ের ব্যাপারে আড্ডায় যোগ দিন। বই এর রিভিউ পড়ূন।

 ১০। প্রথমে সহজবোধ্য, মজার কোন বই দিয়ে শুরু করুন। ছোট বই দিয়ে শুরু করুন।

 ১১। বন্ধু বা আত্মীয় কাউকে রিডিং পার্টনার বানিয়ে নেন যার সাথে তাল মিলিয়ে বই কেনা ও পড়া যাবে অথবা বইয়ের মজার, চিত্তাকর্ষক অংশগুলো শেয়ার করা যাবে।
.
#চতুর্থ ভাগঃ কী ধরনের বই পড়ব?????

 বই এর ও ভাল মন্দ আছে। তাই বই পড়ার অভ্যাস গড়ার পাশাপাশি উপকারী বই পড়ার অভ্যাস করা উচিত। শুধু গল্প উপন্যাসেই আটকে থাকা যাবেনা। চারপাশের জগত সম্পর্কেও তো জানা প্রয়োজন। প্রিয় বই পাঠকেই ব্যাক্তিত্বে প্রভাব বিস্তার করে। তাই বই চয়নে সাবধানতা আবশ্যক।

শুধু চটকদার মজার গল্প- উপন্যাস পড়েই সময় নস্ট করলে হবেনা। তাই ভ্রমণের কাহিনী পড়বেন। পড়বেন বিজ্ঞানের বই। পড়বেন ইতিহাসের বই। আরও পড়বেন ফিলোসফি, এস্ট্রোনমি আর সাইকোলজির বই। কল্পনাশক্তিকে করবেন শাণিত। ভাল লেখকের বই পড়বেন। নিজ নিজ রুচি অনুযায়ী জ্ঞান অর্জনের লক্ষ্যে বই পড়বেন।
জানা প্রয়োজন পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত ধর্মটাকে ও ।
কেন পিছনে পড়ে আছেন? আর কত দেরী? আশেপাশে তাকিয়ে দেখেন, পিছিয়ে পড়ে নিজেই নিজের ক্ষতি করছেন।

#Collected_&_Edited