তিনি নেই আজ চারশো বছর পূর্ণ হল। তবু তাঁর মতো এত উজ্জ্বল স্রষ্টা সারা পৃথিবীতে আর একজনও নেই। তিনি উইলিয়াম শেকসপিয়ার। আজ ১৬ বছর হল, তাঁর প্রয়াণদিবসটি বিশ্ব বই দিবস হিসেবে পালিত হয়।

 ২৩ এপ্রিল শেকসপিয়ারের মৃত্যুদিন, সে কথা আমরা সবাই জানি। কিন্তু তাঁর জন্মদিন?

না, বেজায় গণ্ডগোল। এপ্রিল মাসেই যে, তা নিয়ে দ্বিমত নেই অনেকেরই। তবে তারিখ নিয়ে ভালোরকম মতভেদ আছে।

বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ মত হল, উইলিয়াম শেকসপিয়ারের জন্ম আর মৃত্যু ঘটেছে একইদিনে। অর্থা‍ৎ ২৩ এপ্রিল।

আচ্ছা, আপনার কি মনে হয়? শেকসপিয়ার শুধুই একজন কবি আর নাট্যকার ছিলেন?

ও মা, জানেন না তাহলে? শেকসপিয়ার একজন অভিনেতাও ছিলেন বইকি! তিনি তাঁর নিজের রচিত নাটক হ্যামলেট-এ ভূতের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। অ্যাজ ইউ লাইক ইট নামে আর এক নাটকে অ্যাডামের চরিত্রে অভিনয় করেন। বলা বাহুল্য, এই নাটকও শেকসপিয়ারের লেখা।

শেকসপিয়ারের জীবনের সাতটা বছরের কর্মকাণ্ড বিশেষ জানা যায় না। ১৫৮৫-১৫৯২। ঐতিহাসিকরা অনুমান করেন, এই সাত বছর হয় তিনি ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন, নয়তো স্কুলে পড়াচ্ছিলেন কিংবা নাটকের দলে অভিনয় করছিলেন।

আপনারা জানেন কি, শেকসপিয়ার নিজে তাঁর নামকে অন্তত পাঁচ-ছ’ রকমভাবে উচ্চারণ করতেন! তাই কোনটা যে আসল উচ্চারণ, তা নিয়ে দ্বন্দ্ব আছে বিস্তর।

শেকসপিয়ার মানুষটি ভীষণ শৌখিন ছিলেন। এক কানে থাকত এক সোনার দুল। সপ্তদশ শতাব্দীর আঁকা পোর্ট্রেট থেকে যে মানুষটিকে দেখে আমরা শেকসপিয়ার বলে চিনে থাকি, চলতি বিশ্বের মত, এই ছবিটা আসলে স্বয়ং তাঁরই আঁকা। তবে এক অন্যতর ছবিও দেখা গেছে। ওই সময়েরই এক বিরল আঁকা বলছে, শেকসপিয়ারের গালে ভর্তি দাড়ি ছিল। শার্টটা খুব একটা টাইট ফিটিংস নয়। টাইটাও লুজ। মাথার চুলটা বেশ পাতলা। এক কানে একটা সোনার দুল। সে সময়ের নিরিখে অত্যন্ত ফ্যাশন সচেতন, সন্দেহ নেই।

এ তো গেল ফ্যাশনের প্রতি সচেতনতা। সাহিত্যের প্রতি সচেতনতা তাঁর কেমন ছিল, জানুন একবার! শেকসপিয়ারের জন্য একশো-দুশো নয়…পাক্কা তিনহাজার নতুন শব্দের ঠাঁই হয়েছে অক্সফোর্ড ইংলিশ অভিধানে।

শেকসপিয়ারের অনেক নাটকই তাঁর স্বকীয় রচনা নয়। বেশিরভাগ প্রাণিত হয়েছে ইংরেজি বা লাতিন কবিতা, লোককথা, ইতিহাস কিংবা নাটক থেকে। তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ নাটক রোমিও-জুলিয়েট নিয়ে বিতর্ক বলে, ইতালিয়ান নাটকের ছায়ায় আধারিত।

তবে বিতর্ক যতই থাক না কেন, সারা পৃথিবী জুড়ে সবচেয়ে বেশি আদৃত নাটক এই রোমিও-জুলিয়েট। বিগত দশকে সারা পৃথিবীর চব্বিশটা দেশে সবচেয়ে বেশি মঞ্চস্থ হয়েছে এই নাটক।