শান্তিনিকেতনের গোড়ার দিকের কথা ।

ছাত্রদের হোস্টেলে মাটির দেওয়াল , খড়ের চাল ।টানা বৃষ্টি হলে চাল থেকে জল পড়ত । একবার এমন হল যে সারা রাত ছাত্ররা ঘুমোতেই পারলো না । খাট সরিয়ে -ও বিশেষ লাভ হোলো না । ভোরের দিকে সবাই রাগে ফেটে পড়ার উপক্রম । ঠিক হোলো সক্কলে গিয়ে স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ কে তারা ক্ষোভের কথা জানাবে। এমনকি আশু বিহিত না হোলে তারা শান্তিনিকেতন ছেড়ে চলে-ও যাবে । শান্তচিত্ত গুরুদেব শুনলেন সকলের কথা। তারপরে বললেন যে গতরাতে এক-ই কারণে তাঁর নিজের-ও সারারাত একটু-ও ঘুম হয়নি । এক-ই অবস্থা । উপর থেকে জল পড়ছে , শোওয়ার একটু-ও উপায় নেই । তা তিনি কি করলেন সারারাত ! যখন দেখলেন ঘুম সত্যি-ই হবে না , তখন খাতা -কলম নিয়ে বসলেন । প্রথমে লিখে ফেললেন একটি কবিতা । লেখা হয়ে গেলে তিনি ধীরে ধীরে তাতে সুর দেওয়ার চেষ্টা করতে লাগলেন । শেষ পর্যন্ত একটি গান -ই হয়ে গেল , এদিকে রাত কেটে ভোর । –দেখ তো শুনে কেমন লাগে , বললেন তিনি – ” তাই তো আমায় জাগিয়ে রাখো , ওগো ঘুম ভাঙানিয়া , তোমায় গান শোনাব।” বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা তো হতবাক ।

এমন মানুষ কে ছেড়ে তারা যাবেই বা কোথায় ! যে অবস্থায় তাদের হোলো বিষম ক্রোধ , রবীন্দ্রনাথ করলেন এক অমর সৃষ্টি । মাথা নত করে ফিরে গেল তারা ।

এই মানুষটিকে ছেড়ে যাওয়া যে অসম্ভব ।।