রহস্য-ময়ী

(নারী এমনিতেই রহস্যের অপর নাম। তারপর তাঁর নামের সঙ্গে সত্যিকারের রহস্য যোগ হলে তো আর দেখতে হবে না। শিরদাঁড়ায় কাঁপন? তবে তো পড়তেই হয়...)

* বাংলায় প্রথম গোয়েন্দা গল্প লেখিকার নাম সরলাবালা দাসী। গল্পের নাম 'ঘড়ি চুরি'। লেখিকা কুন্তলীন পুরস্কারপ্রাপ্ত।

* নারী গোয়েন্দাকে নায়িকা বানিয়ে বাংলা সাহিত্যে ধারাবাহিকভাবে প্রথম নিয়ে আসেন প্রভাবতী দেবী সরস্বতী। তাঁর সৃষ্ট দুটি চরিত্রের নাম ছিল কৃষ্ণা ও শিখা।

* এক বয়স্কা বাঙালি মহিলা রহস্যভেদীর দেখা মেলে সৌরীন্দ্রমোহন মুখোপাধ্যায়ের 'বিন্দিপিসির গোয়েন্দাগিরি' গল্পে। তিনি কাঁথা সেলাই করতে করতে অনেকদিন আগের এক হত্যাকাণ্ডের রহস্য সমাধান করে ফেলেন।

* লেখিকাদের মধ্যে সুষমা সেন, প্রতিভা বসু, আশালতা সিংহ ও শৈলবালা ঘোষজায়া গোয়েন্দা গল্প লিখেছেন। তবে তাঁদের সৃষ্ট চরিত্ররা সবাই পুরুষ। আধুনিককালে অবশ্য সুচিত্রা ভট্টাচার্যের সৃষ্ট গোয়েন্দা চরিত্র নারীর।

* অজিতকৃষ্ণ বসু দুটি গল্পে নিয়ে এসেছেন গোয়েন্দা নন্দিনী সোম-কে।

* আশাপূর্ণা দেবী কয়েকটি গল্পে ট্যাপা ও মদনা নামে দুই চরিত্র এনেছেন। তারা প্রথমজীবনে ছিঁচকে চোর ছিল। পরে রহস্য সন্ধানে নামে। তাঁর একটিমাত্র গল্পে মেয়ে গোয়েন্দা রয়েছে।

* নলিনী দাস তাঁর রচনায় নিয়ে আসেন চার কিশোরী গোয়েন্দাকে। তাদের নাম কালু, মালু, টুলু আর বুলু। এই চারে মিলে সে বাহিনীর নাম গোয়েন্দা গণ্ডালু।

* ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়ের পাণ্ডব গোয়েন্দা সিরিজে পাঁচ ক্ষুদে গোয়েন্দার দলে দুই কিশোরী-ও ছিল। বাচ্চু, বিচ্চু।

* সত্তরের দশকে মনোজ মিত্র নিয়ে আসেন গোয়েন্দা দময়ন্তী সেন-কে।

* লেখিকা কবিতা সিংহ রহস্য কাহিনি লেখেন। তবে তার নায়ক পুরুষ।

* অদ্রীশ বর্ধন আশির দশকে নিয়ে আসেন গোয়েন্দা নারায়ণীকে। সমস্ত দিক থেকে তার মধ্যে পশ্চিমি ছায়া অনেক বেশি।

* নব্বইয়ের দশকে তপন বন্দ্যোপাধ্যায় নিয়ে আসেন গোয়েন্দা গার্গীকে।

* পারমিতা ঘোষ মজুমদারের মেয়ে গোয়েন্দা রঞ্জাবতীর সংস্থা Truth Seekers. তাঁর সহকারী লাজবন্তী ও কিশোরপুত্র গোগো।

* অঞ্জন মান্নার গল্পে আমরা পেয়েছি নারী গোয়েন্দা অঝোরঝরা বসুকে।

* গৌরপ্রসাদ বসুর গোয়েন্দা কুশলের সহকারিনী এলা। পরিমল গোস্বামীর গোয়েন্দা হরতন হাজরাকে পরামর্শ দেন তাঁর স্ত্রী কুসুমিতা। সমরেশ বসুর গোয়েন্দা অশোক ঠাকুরকে সাহায্য করেন তাঁর বৌদি কাঞ্চন।

(তথ্যসূত্র: বিশ্বদেব গঙ্গোপাধ্যায় 
বই: মেয়েরা যখন গোয়েন্দা)